Breaking News
Home / পাঁচফোড়ন / ভালুকায় মাল্টা ও লেবু চাষে বাম্পার ফলন, বছরেই লাখপতি

ভালুকায় মাল্টা ও লেবু চাষে বাম্পার ফলন, বছরেই লাখপতি

 

ভালুকা(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান সবুজেঘেরা অভয়ারণ্য। সেই অভয়ারণ্যে লেবু ও মাল্টা চাষে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন ‘প্রয়াস এগ্রো’ নামের কৃষি খামার। এখানে শুধু লেবু আর মাল্টাই নয়, সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে পেঁপে, পেয়ারা, লাউ, ক্যাপ্সিকাম, হলুদ- আদা’সহ নানান কৃষিজ সব্জি।
কৃষি নির্ভর ও সবুজেঘেরা এলাকার শিক্ষিত ছেলে মাজহারুল ইসলাম শামীম পেশায় একজন ওয়েব ইঞ্জিনিয়ার। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাবেক জিএম জালাল উদ্দিন,
মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীর ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন ও চারজন আইটি প্রকৌশলী শামিম, শরীফ,কাজল ও বাদল এবং স্থানীয় মজিবর রহমানকে নিয়ে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিজ গ্রাম ভালুকা উপজেলার কাদিগড়ে ১৭ সালে ১০একর জমিতে মাল্টা ও লেবু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তাদের ১৫ একর জমিতে ‘প্রয়াস এগ্রো’, ৪একরে ‘বারাকাহ এগ্রো’, ও ২একরে ‘মেম্বার এগ্রো অ্যান্ড নার্সারী’ নামে ৩টি মাল্টা ও লেবুর বাগান রয়েছে।
১৫ একর জমিতে বারি -১ জাতের মাল্টা ও ১০ একর জমিতে সিডলেস জাতের বিচিবিহীন লেবু চাষ করছেন। শামীম জানান দু’হাজার উনিশ সালে ১৭ শ মাল্টা গাছ থেকে আড়াই টন, দু’হাজার বিশ সালে ২৫শ মাল্টা গাছ থেকে ১৮-২০ টন মাল্টা উত্তোলন করেছেন।

এছাড়া উনিশ সালে সারে পাঁচ হাজার গাছের লেবু বিক্রি করেছেন ১২ লাখ টাকা। দু’হাজার বিশ সালে এ পর্যন্ত তারা ৯হাজার গাছ থেকে ২০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন মাত্র তিন বছরের পরশ্রিমে। মাল্টা ও লেবু চাষের পাশাপাশি মাল্টা ও লেবুর চারা বিক্রি করে টাকা আয় করছেন এই কৃষি খামারিরা ।
সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় বাজার ও ঢাকায় মাল্টা বিক্রি করা হয়। এছাড়া সিডলেস লেবু সারা বছর বিক্রি হয়। লেবু বিচিহীন, গন্ধযুক্ত, সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা প্রচুর। বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রত্যেক বছর।

গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা সিডলেস লেবু ও বারি-১ জাতের মাল্টা। চারদিকে সবুজের সমারোহ। কাদিগড় গ্রাম যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে রূপ নিয়েছে।
এ অঞ্চলের মাটি মাল্টা ও লেবু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সাত বন্ধুর বাগান দেখে অনেকেই মাল্টা ও লেবু চাষে উৎসাহী হচ্ছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় বাগানীরা লেবু তোলায় ব্যাস্ত। মাল্টা বাগান পরিচর্যায় এলাকার বেকার নারী পুরুষকে কাজে লাগিয়ে তদারকি করছেন। লেবু নিতে আসা এক পাইকার বলেন- এখন একহাজা লেবু আট শ’ টাকায় কিনে নিচ্ছেন যেগুলো গত মাসে ১হাজার লেবু সাত হাজার টাকা করে কিনতে হতো।
বাগানে দেখা হয় স্থানীয় শিক্ষক শফিউল্লা লিটনের সাথে, তিনি মাল্টা চাষের জন্য পরামর্শ নিতে ও চারা সংগ্রহের জন্য এসেছে। এই বাগানের ফলন দেখে কৃষিতে নীরব বিপ্লব মনে হচ্ছে।
কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাবেক জিএম জালাল উদ্দিন বলেন- অবসর জীবনে ব্যাসত থাকা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হতে প্রথমে মৎস, মুরগী ও গরুর খামার করেন। তারপর ইউটিউবে মাল্টা চাষের সফলতা দেখে উদ্ভুদ্ব হয়ে ৭জন মিলে বাগান গড়ে তোলেন। মাল্টা যেহেতু নিদৃষ্ট সময় পরে পলন আসে তাই দ্রুত ফলনযোগ্য অর্থকরী ফসল লেবু চাষ করেন। তিনি বলেন- লেবু বিক্রির টাকায় তাদের মাল্টা বাগানের খরচ হয়েও নিজেরা নিতে পারছেন।
এই বাগানের আরেক কর্ণধার বেসরকারি চাকুরে লোকমান হোসেন বলেন- মুলত কৃষির প্রতি ঝুঁক লেবু ও মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বারোমাসি লেবু তাদের বাগান থেকে প্রতিদিন পাইকাররা এসে কিনে নেয়। আর মাল্টা গতবছর থেকে উৎপাদন শুরু হলে এবার বাণিজ্যিক ভাবে বাজার জাত করতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাগানের আরেক অংশিদার জানান, এবার মাল্টার গাচ ফলে পরিপূর্ণ। গাছের পাতায় পাতা মাল্টা।  এ বছর তাদের বিক্রি টার্গেট ২৫-৩০লক্ষ টাকা। যা আগামী বছর দ্বিগুণ হবে বলে আশাবাদী।
মাল্টা চাষি ও বাগানের তত্বাবধানে থাকা সুরুজ মেম্বার ও মজিবুর রহমান বলেন, আমরা নতুন করে আরও ৩টি বাগান করেছি। সরকারি সহায়তার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা নিজস্ব অর্থায়নে ৬০লক্ষ টাকা এই বাগানে খাটিয়েছেন। সরকারি বা বেসরকারি কোন ঋন তারা এখনো গ্রহন করেননি।
মাল্টা চাষি বাদল মিয়া জানা, লেবু ও মাল্টা চাষে শুধু তারাই স্বাবলম্বী হচ্ছেন না, পাশাপাশি এই বাগানে শ্রম বিক্রি করে এলাকার ৩০জনের ডেইলি লেবার বেকারত্ব দুর করে স্বচ্ছলতা পেয়েছেন। গত বছরে প্র ৭লাখ টাকা বাগানে কর্মচারীরা বেতন নিয়েছেন।
প্রয়াস এগ্রো দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে শামীমের অন্য আরও পাঁচ বন্ধু নতুন ২একর জমিতে মাল্টা বাগান ও চারা উৎপাদনের জন্য সুরুজ মেম্বার আলাদা নার্সারি করেছেন।
কাচিনা ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারি আল আমিন জানান, লেবু এবং মাল্টা অর্থকরী ও কম খরচে বেশী উৎপাদনশীল ফসল। কাদিগড়ের এই বাগানটি ভালুকায় সবচেয়ে বৃহৎ বাগান। আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চলতি বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এক একরের একটি মাল্টা বাগান দেয়া হয়েছে।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মোবাইলে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। এই কৃষি কর্মকর্তা বাগন পরিদর্শক করেছেন বলে বাগানিরা জানান।

Check Also

ভালুকায় ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে নেওয়ার

:: ভালুকা পৌরসভার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাঁটানো ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, তোরণ ,দেয়াল লিখন এবং বিলবোর্ড …