Breaking News
Home / সারাদেশ / খুলনা / ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হতে পারে খুব শীঘ্রই

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হতে পারে খুব শীঘ্রই

স্টাফ রিপোর্টার – চলতি বছরের ১৫ই জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে ওই চাকুরী প্রার্থীর চাকরি না হওয়ায় প্রার্থীকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। টাকা নেওয়া ও চাকরি না হওয়া নিয়ে প্রার্থী ও ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে মুঠোফোনে হওয়া কথোপকথনের তিনটি অডিও ফাঁস হয়। ওই তিন অডিও রেকর্ড থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিলো। ঘটনার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেন নি। তবে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান, তদন্ত কমিটির সদস্য ও ইনফরমেশন এন্ড কমিওনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড.তপন কুমার জর্দার। তদন্ত কমিটির প্রধান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল (আইসিই) বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে ৩৭ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় এসব শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিনই একটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকের সঙ্গে এক প্রার্থী ও প্রার্থীর স্বামীর কথোপকথনের তিনটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। কথোপকথন পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই নিয়োগ-বাণিজ্যে সহযোগী হিসেবে চাকরি পাইয়ে দিতে প্রার্থীর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী প্রার্থী নগদ ১০ লাখ টাকা এবং বাকি ১০ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে সরবরাহ করেন। তবে নিয়োগ নিশ্চিত করতে না পারায় ওই দুই শিক্ষক পরে প্রার্থীকে টাকা ফেরত দেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট’র বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র সাথে। তিনি জানান, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের টেলিফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি এবং এই ঘটনার প্রাইমাফেসি পেয়েছি। প্রাইমাফেসি পাওয়ার সাথে সাথে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এশটি শক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাতে করে এই ধরনের কাজে কোন শিক্ষক আর সাহস না পায়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের আবেদনের পেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আমার কাছে যা তথ্য আছে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে অনতিবিলম্বে তারা তাদের রিপোর্ট আমাদের কাছে জমা দিবেন এবং আমরা আশা আগামী সিন্ডিকেটে এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আমরা আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করতে সমর্থ হবো। উপাচার্য ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতি থেকে বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্নরুপে বেরিয়ে এসছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বস্তুনিষ্টতা এসব ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসন আপোষহীন এবং কোনভাবেই এগুলোর সাথে আপোষ করবে না এবং এই তদন্ত প্রতিবেদন অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে বলেও তিনি জানান।
শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির অগ্রগতি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহাবুবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একটি জিনিস নিশ্চিত করতে পেরেছে ক্যাম্পাসে সেটি হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এই বিষয়ে কোন প্রকার কার্পন্য হবে না। এই বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যতধরনের ঝড়ই আসুক না কেন সেটা মোকাবেলা করার ক্ষমতা এই প্রশাসনের রয়েছে। আর সেই প্রশাসনের হাত হিসেবে আমি প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তদন্ত কাজের মত একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ করতে গিয়ে হয়তো তদন্ত কমিটির হয়তো একটু সময় লাগছে, তবে তদন্তে কাউকে কোন প্রকার ছাড় দেওয়ার মানসিকতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা তদন্ত কমিটির নেই বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, প্রক্টর হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে একটি কথা বলতে পারি আমাকে ব্যবহার করে কখনও কোন অশুভ চক্র কোন স্বার্থউদ্ধার করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও সেটা সম্ভব হবে না।

নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ও ইনফরমেশন এন্ড কমিওনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মাহাবুবুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সময় নেওয়ার ব্যাপারে জানান, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তাদেরকে যখন চিঠি দেওয়া হয় তারা লিখিতভাবে আমাদের কাছে ১০ দিনের সময় চেয়ে নেন। ইতিমধ্যে ফোনালাপের সাথে যুক্তদের সাক্ষাতকারের সাথে সাথে আরো যাদের নাম আছে তাদেও সাক্ষাতকার এবং ঐ নিয়োগ বোর্ডে যারা ছিলেন প্রত্যেক সদস্যের সাক্ষাতকার সেই সাথে লিখিতকারে তাদের বক্তব্য নেওয়ার পর আমরা ইতিমধ্যে দুইবার মিটিং করেছি। মোটামুটিভাবে আমরা এই তদন্ত কাজের উপরে একটি রিপোর্ট তৈরী করেছি এই রিপোর্টের উপর তদন্ত কমিটির সাথে যুক্ত সদস্যদের মতামত এবং পরামর্শের ভিত্তিতে হয়তো ফাইনাল একটি রিপোর্ট খুব শীঘ্রই জমা দিতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ১০-১১ তারিখ পর্যন্ত আমাদের রিপোর্ট প্রদানের সময়সীমা রয়েছে তবে আমরা আশা করছি এর আগেই হয়তো আমরা ফাইনাল রিপোর্টটি জমা দিতে পারবো।
শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে কথা হলে তারা দাবি জানান, শুধু এই রিপোর্টটি নয় যে সকল তদন্ত রিপোর্ট বর্তমান ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো অতিদ্রুততার সাথে প্রকাশ করা হোক এবং সেই সাথে যারা বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ছিলেন তাদের শাস্তি এবং যারা কোন অপরাধের সাথে যুক্ত ছিলেন না তাদের সম্মানের সাথে তাদের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

Check Also

উত্তরায় ভালুকা সমিতির ঈদ সামগ্রী বিতরণ

  ভালুকা প্রতিনিধি : উত্তরায় ভালুকা সমিতির ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে । বৃহস্পতিবার উপজেলা …

Leave a Reply