Breaking News
Home / সাহিত্য / আমারবাংলা ভার্চুয়াল সংখ্যা -২০২০ / অনিন্দ্য জসীম‘র দুটি কবিতা

অনিন্দ্য জসীম‘র দুটি কবিতা

নীলছবি

গোপনে, মাঝেমধ্যে দেখে অনেকেই সে এক আদিম শিল্প, বাৎস্যায়নের নিপূণ অমোঘ ব্যবহার প্রতিটি মেহন চুম্বনে, তৃপ্তির শিৎকাওে স্বর্ণলতার বনে অজস্র বেলীফুল ঝরে। প্রস্তর খোদাই- খাজুরাহো গ্রিক ভাস্কর্যে ঝিনুকের উপর অঙ্কিত ভেনাস, অলিম্পাস পর্বতে প্রেমের সচিত্র প্রতিবেদন– শিল্পিত নগ্ন কোলাজ, অতৃপ্তির ক্লেদ আকাঙ্ক্ষায় ডুবে থাকে পরম তৃষ্ণার্ত মানুষ। আদম ও ইভ না-খেলে জ্ঞানবৃক্ষফল আমাদের নগ্নতার এই লজ্জাবোধ কে ঢাকতো কে জানতো জীবনের এই সুখ, অন্তর্গত বেদনার নাম কাম ও কামনার পরম সংবেদ ! অনেকের মতো আমিও খেযেছি সে ফল ঢেকে রাখি তাই নিজের সংকোচ আর গোপন আগ্রহে দেখি কামুক ও নীল রমণীর কলাকৈবল্যবাদ।

শহিদ মামা

শহিদ মামা আমার বন্ধু। খুব কাছাকাছি মাখামাখি বন্ধুু। একবালিশ টানাটানি করে মুগদা পাড়ার অনেক রাত, ঘুমে অঘুমে তুমুল কেটেছে– শেলির রোমান্টিসিজমে। জেফ্রি চসারের নাম তার কাছে প্রথম শোনেছি। বড় বেশি অগোছালো, চরম নৈরাশ্যবাদি বেখেয়ালে– শার্টের পকেট খুঁজতে দেখেছি অনেকবার নেতাদের গোষ্ঠি উদ্ধার করে যখন চুমুক দিতো চােেয়র ঠাণ্ডা কাপে গাভাউতা মোড়ের সব বৃক্ষ হেসে উঠতো তার নির্মোহ ভাষণে। সিগ্রেটের ধোঁয়ায় আনন্দ উড়তে উড়াতে কতো বিচিত্র পথ উচ্ছন্নে গেছে তার। এই যে আমার চোখে অশ্রু, চশমার আড়ালে শহিদ মামার নির্জীব মুদিত চোখে অনন্ত নৈঃশব্দ্য, জসীম জসীম বলে কেউ ডাকবে না আর গাভাউতা মোড়ে। আমাদের মতো জীবনের নিত্তিবাদী হিসার ছিল না তার, সময় ও অর্থের মোহ কাটিয়ে সে ছিল র‌্যাঁবোর মতো প্রথাহীন এক অলিখিত শব্দমালা! নেশা আর ছাত্র পড়ানোকে ব্রত ভেবেই কেটেছে তার স্বল্পদৈর্ঘ্য জীবন।

Check Also

এরশাদ আহমেদ’র ছড়া- সূর্যি উঠা