Breaking News
Home / সম্পাদকীয়/উপসম্পাদকীয় / এতো মশা কেন? _সফিউল্লাহ আনসারী_

এতো মশা কেন? _সফিউল্লাহ আনসারী_

 

গরমের সাথে সাথেই মশার প্রকোপ শুরু হয়ে যায়।করোনা মহামারির সময় পার করছি আমরা। এর ভেতরেই মশা আতংক! এই সময়টাতে সকলকেই আরও বেশী সচেতন ও সাবধান হতে হবে। ডেঙ্গু যেনো হানা দিতে না পারে সেদিকে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিতে হবে। এক আতংকের মধ্যে যেনো আরেক আতংক আমাদের বিপর্যস্ত করতে না পারে।

মশা সারা বছর নগরবাসীর সঙ্গী হলেও গরমে অসহ্য যন্ত্রণা আর জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। মশা প্রাণী হিসেবে যত ছোট বরং গুরুত্বের দিক থেকে তত ছোট নয়। এই মশার আতঙ্কিত রূপ দেশবাসী দেখেছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নামক মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে। অকালেই অনেক জীবন প্রদীপ নিভেছে এই ক্ষুদ্র অথচ ভয়ঙ্কর প্রাণী মশার কামড়ে।

গরম পড়ার আগেই বেড়ে গেছে মশার যন্ত্রণা। গ্রাম কি শহর সবখানেই বেসুরে চলছে মশক শিল্পীগোষ্ঠীর মহড়া ও আনাগোনা। ‘রাতে মশা দিনে মাছি এই নিয়ে ঢাকায় আছি’ মুখস্থ বচন সবাই জানে। জানেন আমাদের দুই সিটির নগরপিতা এবং তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাশয়গণ। অথচ নগরবাসী মশক যন্ত্রণায় বেহাল অবস্থায় আছেন। মশক নিধনের উপায় উনাদের জানা থাকার পরও আমজনতার এই যে দুর্ভোগ তার কি কোন প্রতিকার হবে না? ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়ার মতো নানাবিধ রোগ এই মশার মাধ্যমে সংক্রমণ হয়ে থাকে। ছেলে-বুড়ো নির্বিশেষে সকলের জীবনে নাভিশ্বাসের কারণ মশা। তাহলে কি হবে নগরবাসীর?

প্রশ্ন হলো এত মশা কেন? বিশ্বব্যাপী কমবেশি মশার উপদ্রপ রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের এশিয়ায় এর প্রকোপ কখনও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর কারণ কি? প্রথমেই বলতে হয় অসচেতনতা। তারপর যে বিষয়টি সবার আগে আসে তা হলো, নগর পরিকল্পনাকারীদের গাফিলতির কথা। কারণ তাদের সদিচ্ছা, সঠিক ব্যবস্থাপনা, মশা নিধনে ওষুধের সঠিক প্রয়োগে ফাঁকিবাজি, মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিহ্নত না করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করা প্রভৃতি।

হয়ত সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মানুষ আর মশার শত্রুতা লেগে আছে। মশা মাত্রই যে ঘাতক তা না হলেও মশার কামড় কোন আরামদায়ক বিষয় নয় তাই মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশ অবহেলা না করে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্রতি হবেন সেই দাবি এবং উদাত্ত আহ্বান সকল নগরবাসীর। দেশের অন্য সিটি ও জেলা-উপজেলা সদরগুলোতেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ জনসাধারণ। ঢাকার নগরপিতাদের সঙ্গেই সারাদেশে যারা মশা নিধনের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন তাদের সকলের প্রতিই দাবি একটাই মশার হাত থেকে জনগণকে বাঁচান এবং নিজেরাও বাঁচুন নইলে পাবলিক ক্ষেপে গেলে মশার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হবে। তখন সামাল দেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সাফকথা সিটি কর্পোরেশন যদি মশার ওষুধের পরিবর্তে পানি (অভিযোগ রয়েছে!) না ছিটিয়ে ঠিকমতো মশার বংশ বিস্তার রোধ ও মশা নিধন এবং নিয়ন্ত্রণ করত তাহলে মশার কামড়ের যন্ত্রণা নগরবাসীকে এতটা কষ্ট দিত না। ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারী ফিরে আসত না। সিটি কর্পোরেশনের গাফিলতির কারণ এই এত মশা! জনসচেতনা বাড়নোর কাজটিও তাদেরকেই করতে হবে। মশা নিধনে আগের মতো এসব ওষুধ কাজ না করলে নতুন এবং কার্যকরী ওষুধ আনুন, পাবলিককে সুরক্ষা দিন। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে আশা করা যায় সিটি কর্পোরেশনের সদিচ্ছা, দায়িত্ববোধ, সঠিক মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার ঠিকঠাক প্রয়োগ নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। ডেঙ্গুর আর চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারী, এই ক্ষুদ্রপ্রাণী মশার কামড়ে আর যেন ফিরে না আসে সেই কামনা আজ সকল জনতার।

করোনাকালে এক আতংকের মধ্যে যেনো আরেক আতংক আমাদের বিপর্যস্ত করতে না পারে। সরকার ও সংশ্ললিষ্টরা তৎপর হলেই মঙ্গল।

 

#কবি-শিক্ষক-সাংবাদিক

Check Also

“উৎসবপ্রিয় বাঙ্গালীর সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা” – উত্তম কুমার পাল হিমেল

শারদীয় দূর্গোৎসব হল উৎসবপ্রিয় বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ গুরুত্বপূর্ন ও ধর্মীয় সামাজিক উৎসব। প্রতিবছর শরতকাল …