Breaking News
Home / সম্পাদকীয়/উপসম্পাদকীয় / করোনাকালে ঈদ: অন্যরকম ঈদ

করোনাকালে ঈদ: অন্যরকম ঈদ

ঈদ উৎসবের আনন্দ হোক সবার

সফিউল্লাহ আনসারী


ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। বছর ঘুরে একবার আসে ঈদুল ফিতরের ঈদ। কিন্তু এবারের ঈদটা একটু ভিন্নতা, অন্যরকম মৃত্যু ভয়ে আতংকিত জনপদ তথা সারা বিশ্ব উদযাপন করছে। মহামারি নভেল করোনাভাইরাস মানব সভ্যতাকে জীবনযুদ্বে আতংকিত করে তুলেছে। মানুষ আনন্দ ভুলে বাঁচার লড়াইয়ে সময় পার করছে হতাসা আর মৃত্যু ভয়ে। এরই মাঝে বছর ঘুরে মুসলিমের দোয়ারে ঈদুল ফিতর। করোনা আতংক জয় করে মানুষ ঈদ আনন্দ ঘরবন্ধি হয়েও ভোগ করতে প্রস্তুত। কারন সময় যতোই প্রতিকুলে থাকুক জীবন থেমে থাকেনা।

ঈদ মানেই বিশাল উৎসব। বাংলাদেশে যেমন রয়েছে নানা জাতি ধর্মের মানুষের বাস ঠিক এই ভিন্ন জাতি গোষ্ঠির রয়েছে আলাদা ধমীয় উৎসব। বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশেও ঈদ উৎসব যেমন রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য, অন্যদিকে রয়েছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মতো বিশ্বাসের একটা বিষয়। ইসলাম শুধু ধর্ম নয়, জীবন ব্যবস্থাও। এদেশের ভিন্ন জাতিগোষ্ঠির উৎসবগুলোও আমাদের আনন্দে ভাসায়, মেলবন্ধনে করে একিভুত। জাতি-ধর্ম ভুলিয়ে সব ব্যবধান ঘুঁচিয়ে এক করে দেয় ঈদ।
বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় উৎসবের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর অন্যতম। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিমের ঘরে আনন্দের বারতা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদের আগমনে এ খুশি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু সবার জন্যই ঈদ বয়ে আনে অন্তহীন খুশির জোয়ার। ভেদাভেদহীন এই আনন্দ নির্মল পবিত্রতার পরশ ছড়িয়ে যায় সর্বত্র।
ঈদ আরবি শব্দ। ঈদের শাব্দিক অর্থ আনন্দ-খুশি। মুসলমানদের দু’টি খুশির দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা। এ দু’টি দিবসই অত্যন্ত মর্যাদাশীল, আনন্দ ও খুশি আর ইবাদতেরও দিন। সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দময় উৎসব ঈদুল ফিতর আসে বিভেদহীন সমাজ বিনির্মাণের শিক্ষা নিয়ে প্রতিটা মুসলিমের ঘরে ঘরে।
ঈদ শুধুই আনন্দ আর ফূর্তির জন্য নয়, এতে আছে ইবাদতের মর্যাদাও। তাই ঈদুল ফিতর আমাদের বিভেদহীন সমাজ গঠনে মানুষের কল্যাণ আর ইহ ও পরকালীন শান্তির বার্তা দিয়ে যায়। আমাদের প্রত্যাহিক কাজ-কর্মে এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি কামনা ও আমাদের জীবনে মঙ্গল খুঁজে নিতে পারি ঈদকে উপলক্ষ করে।
ঈদের আনন্দে রয়েছে নির্মল পবিত্রতার পরশ। ঈদ আসে খুশির প্লাবনে ভাসাতে, ঈদ আসে আনন্দের উচ্ছ্বলতায়, ঈদ আসে প্রার্থনা আর ক্ষমার বারতা নিয়ে। কথা হলো- আমরা কতোটুকু ত্যাগ করতে পারলাম, ঈদের শিক্ষা থেকে কতোটুকু বাস্তবায়ন করতে পারলাম নিজের জীবনে? ঈদ কি শুধু নিজের আনন্দ আর খুশি? না। প্রতিবেশী, গরীব-দুঃখির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুখ-দুঃখে একাত্ম হয়ে সকলের খুশিতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারাতে ঈদের আনন্দ নিহিত। সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে টেনে নিয়ে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ক্ষমা আর ভালোবাসায়  মহামিলনের এই ক্ষণকে সার্থক করা। সত্য আর সুন্দরে নিজের জীবন এবং সমাজকে গড়তে হবে ঈদের শিক্ষায়।

রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের এই পবিত্র রমজান মাস জুড়ে কতোটুকু সংযমী হয়েছি- তা জীবন চলার পথে সকল পাপ আর নেতিবাচক প্রবণতা থেকে রক্ষা করবে সে কামনা মহান আল্লাহর কাছে। ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে সঠিক পথে পরিচালিত করে অন্যায়-অবিচার, ঘৃণা-বিদ্বেষ, হিংসা-হানাহানি ত্যাগ করে মহান ঈদের শিক্ষায় আমাদের জীবন গঠন করাতেই সার্থকতা। ঈদ এলো আর গেলো আমরা কোনরকম আদর্শে নিজেকে শুধরাতে পারলাম না তা এক প্রকার হেরে যাওয়া। মানুষে-মানুষে যে বন্ধন তাতে যেনো থাকে সত্য-ন্যায়ের চেতনা।
উৎসব যেহেতু একা উদযাপনের বিষয় নয়, তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের এই ঈদ উৎসব যেনো সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের, প্রতিবেশীদের মাঝে সার্বজনিনতা নিয়ে আসে সে দিকে খেয়াল রাখাও দরকার। কারণ আমার প্রতিবেশী অন্য ধর্মের, আমি আনন্দ করবো আর সে তার ভাগ থেকে বঞ্চিত হবে তা ঠিক হবে না।
যার গান ছাড়া ঈদের আনন্দ পুর্ণতা পায় না,তিনি আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম। তাঁর ঈদের গান-
‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত , মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।’ (সংক্ষেপিত)
আমাদেরকে উজ্জীবিত করে, আমাদের চেতনাবোধকে শানিত করে, মানবতার প্রতি মমত্ববোধ জাগায়।
বিভেদহীন সমাজ গঠনের শিক্ষা নিয়ে ঈদকে আরো অর্থবহ করে তুলতে ধার্মিকতার সাথেই মানবতাবাদী, সত্য-ন্যায়ের পথের পথিক হওয়া জরুরি। একটি সুখি-সমৃদ্ধ, সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় হোক এবারের ঈদ। ঈদ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য হয়ে উঠুক সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও কল্যাণের। ঈদুল ফিতরের  মহান শিক্ষা যেনো আগামী দিনে এক হয়ে চলতে শক্তি জোগিয়ে আমাদের মানবিক চেতনাকে উজ্জীবিত করে সে কামনা করছি মহান প্রভুর কাছে।

করোনাময় সময়ের অন্যরকম এবারের ঈদ আমাদের ঘরবন্ধি জীবনে ভয় আতংকের মাঝেও নতুন বাঁচার সাহস জোগাবে সেই প্রত্যাশা। আমাদের মানবিকতা জাগ্রত হোক ঈদের মহিমায়।ঈদ হোক ভেদাভেদ ভুলে মিলনের আনন্দে মুখর অনন্য দিন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা সকলকে।

সচেতন হোন সাবধান থাকুন ‘ ঈদ আনন্দে অসচেতনতা যেনো বিপদ ডেকে না আনে সেদিকে খেয়াল রেখে ঘরেই থাকি…

ঈদ মোবারক ।

লেখক: সাংবাদিক

Check Also

“উৎসবপ্রিয় বাঙ্গালীর সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা” – উত্তম কুমার পাল হিমেল

শারদীয় দূর্গোৎসব হল উৎসবপ্রিয় বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ গুরুত্বপূর্ন ও ধর্মীয় সামাজিক উৎসব। প্রতিবছর শরতকাল …