Breaking News
Home / জাতীয় / আম্পানে পানির নিচে বিস্তীর্ণ জনপদ, লাখো মানুষ গৃহহারা

আম্পানে পানির নিচে বিস্তীর্ণ জনপদ, লাখো মানুষ গৃহহারা

অনলাইন ডেস্ক- সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালিয়ে চলে গেছে। রয়ে গেছে তার ক্ষতচিহ্ন। ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে মাইলের পর মাইল জনপদ। গৃহহারা হয়েছেন লাখো মানুষ। আর একরের পর একর ফসলি জমি পরিণত হয়েছে কুলকিনারাহীন নদীতে।

সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবের পর এমনই অবস্থা এখন খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় এলাকা। হেলিকপ্টারে পরিদর্শনে গিয়ে এমনই দৃশ্য উঠে এসেছে সময় সংবাদের ক্যামেরায়। তবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বললেন, আম্পানে একটি ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। জীবনযাত্রা রয়েছে স্বাভাবিক।
যেন সাগর নদী আর জনপদ মিলেমিশে একাকার। আকাশ থেকে যেদিকেই চোখ যায়, পানি আর পানি। এর মাঝে তাণ্ডবের চিহ্ন হিসেবে ডুবুডুবু অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে কিছু কিছু টিনের ঘরের অংশ বিশেষ।

সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবের দুদিন পর হেলিকপ্টারে চড়ে উপকুলীয় এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে খুলনার কয়রায় এমনই দৃশ্য ধরা পড়ে সময় সংবাদের ক্যামেরায়। এ এলাকার প্রায় সব বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বেশির ভাগ গ্রাম। ভেসে গেছে শত শত মাছের ঘের; ডুবে গেছে কৃষকের সাধের সবুজ ফসলের ক্ষেত।
একই অবস্থা দেখা যায় পার্শ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলাতেও। সুন্দরবন লাগোয়া বলেই হয়তো আম্পানের তাণ্ডবে পুরোপুরি বিলীন হয়নি সাতক্ষীরার এই উপকূলীয় এলাকা।

আকাশ পথে সুন্দরবন পার হয়েই ফের চোখে পড়ে বাগেরহাটের মোংলা ও শরনখোলা এবং পটুয়াখালী ও বরগুনার ভয়াবহতার চিত্র। সেখানেও কোনটি নদী আর কোনটি জনপদ বা ফসলের ক্ষেত তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বেশীর ভাগ বাধই ছিলো পানির নিচে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আকাশ পথে এ আয়োজন করলেও অজানা কারণে খুলনা বা বরিশালের কোন অঞ্চলে না নেমে নোয়াখালীর ভাষানচরে গিয়ে হেলিকপ্টারে নামে। সেখানে সাংবাদিকদের ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ঘরও বিধ্বস্ত হতে দেখেননি তিনি। ক্ষতি হয়নি কোন ফসলেরও।
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুর রহমান বলেন, যে অঞ্চলগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি ঘরও বিধ্বস্ত হতে দেখেনি। এবং কোনো ফসল মাঠে দেখা যায়নি কারণ এ দুর্যোগের আগেই সব ফসল কাটা হয়ে গেছে।
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী প্রকৃতির কাছে নত স্বীকার করে জানান, এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাধ মেরামতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে।
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, আমাদের ৮৪টি বাঁধ ভেঙেছে। এবং ২৫০টি জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৮ থেকে ১০ ফিট উঁচু পানি উঠেছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ৪টি এলাকা। সেখানে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশে মোট প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ রয়েছে। যার ৯০ ভাগই কাঁচা বা অস্থায়ী।

Check Also

ইংরেজি নববর্ষ ২০২১ এর শুভেচ্ছা

আমারবাংলার সকল পাঠক,লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের.. ইংরেজি নববর্ষ ২০২১ এর শুভেচ্ছা