Breaking News
Home / শুভেচ্ছা / জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক মঈন মুরসালিন এর জন্মদিন

জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক মঈন মুরসালিন এর জন্মদিন

আজ জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক মঈন মুরসালিন এর জন্মদিন মঈন মুরসালিন এ সময়ের উজ্জ্বল একনিষ্ঠ সাহিত্যকর্মী। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান-বিচরণ-মননজুড়ে শুধুই সাহিত্য। তিনি একাধারে কবি, শিশুসাহিত্যিক, প্রকাশক, সম্পাদক ও সাহিত্য সংগঠক। জন্ম ১৯৮৪ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকার মগবাজার মধুবাগ পিত্রালয়ে। শিক্ষাজীবনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই মঈন মুরসালিন জড়িয়ে পড়েন সাহিত্যের সাথে। নিয়মিত লিখছেন জাতীয় দৈনিক, মাসিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোতে। এ যাবৎ প্রকাশিত মৌলিক গ্রন্থ ১৭টি। কর্মজীবনের সূচনা প্রকাশনার মাধ্যমে। নিজস্ব মেধা মনন দিয়ে গড়ে তুলেছেন ‘প্রতিভা প্রকাশ’ নামক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিভা প্রকাশ থেকে এ যাবৎ প্রকাশিত হয়েছে চার শতাধিক গ্রন্থ। তিনি ২০০৬ সাল থেকে নিজ সম্পাদনায় নিয়মিত প্রকাশ করেন ছোটদের পত্রিকা ‘কানামাছি’। এছাড়াও জড়িত আছেন বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে।

মঈন মুরসালিন সম্পর্কে কবি আসাদ চৌধুরীর মূল্যায়ন
মঈন মুরসালিনকে আমি জানি সম্ভবত এক দশকের অধিককাল ধরে। মগবাজারের মধুবাগ অঞ্চলে এক নামে এই পরিবারটিকে সবাই চেনে। মাদরাসার শিক্ষা সমাপ্ত করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ পাস করেছেন। নিজে লেখেন, এ পরিচয় পেয়েছি অনেক পরে। ‘কানামাছি’ নামে একটি শিশুতোষ পত্রিকা বের করেন, ছড়ার কাগজ ‘ঘূর্ণি’ও। একটু আশুতোষ ধরনের মেজাজ, মুখে হাসি সবসময় লেপ্টে থাকে। নেতৃত্ব দেবার গুণ পুরোপুরি তার আছে। সাহিত্য ইন্সটিটিউট ও প্রতিভা ফাউন্ডেশনের পরিচালক- নিজের সাধ্য সম্পর্কে যথেষ্ট হুশিয়ার তিনি-তাই তিনি এর আয়তন নিজের সীমার মধ্যেই রাখেন। ভালো লেগেছে প্রচারবিমুখ মঈন মুরসালিন কাজ করতে এবং করাতে ভালোবাসেন। প্রতিভা প্রকাশ, তার প্রকাশনী সংস্থার বয়স খুব একটা বেশি হয়নি, এরই মধ্যে খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি প্রায় অপরিচিত লেখক-লেখিকাদের খুঁজে বের করে এনেছেন। পুস্তক-প্রকাশের পাশাপাশি গ্রন্থের প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে যতœবান। এসব কাজে তিনি যথেষ্ট সিরিয়াস, সাহিত্যচর্চায় নিবেদিতপ্রাণ বলেই, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অনেক লিটল ম্যাগাজিন মুদ্রণের ব্যাপারে, বিক্রি ও সরবরাহের ব্যাপারে তার আন্তরিকতা এতোই প্রবল যে, ভিড় লেগেই থাকে তার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে। লেখালেখির ব্যাপারে কিছু বলব বলেই কলম হাতে নিয়েছি, তা তিনি লেখেন, গল্প, কবিতা, অনুবাদ ছাড়াও লেখেন ছড়া, এ পর্যন্ত ১১টি বই বেরিয়েছে। তার মধ্যে চারটিই ছড়ার বই। টুটি চেপে ধর (২০০২), ফ্যান্টম ফটাশ (২০০৭), পাখির শহর পাখির বহর (২০০৮) ও ছড়া কাটে ছড়াকার বই কাটে ইঁদুরে (২০১৩)- অর্থাৎ এই বছর। শেষ বইটি প্রকাশনা-বিষয়ক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। ভালো লাগে, যথেষ্ট সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যশীল মঈন মুরসালিন লেগে থাকতে জানেন এবং হতাশা তার মুখের হাসি কেড়ে নিতে পারে না, লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারে না। না, সবগুলো ছড়ার বই পড়িনি, এলোমেলোভাবে পড়েছি, তবে ‘১০০ ছড়া’ এই পাণ্ডুলিপি (মুদ্রণোপযোগী করে পেজ-মেকআপসমেত পাঠিয়েছেন- হস্তাক্ষরের কোনো চিহ্নই নেই-যা থেকে ব্যক্তিত্বের স্বাদ পাওয়া যায়) বেশ কয়েকবার পড়েছি। যদিও ছড়ার বই, কিন্তু শিশুতোষ পদ্যই অধিক। এটিও আমার ভালো লাগার আরেকটি কারণ। আমরা যাঁদের লেখা পড়ে বড় হয়েছি, অন্তত পাঠ্যবইগুলোতে, সেখানে ছড়ার উপস্থিতি বড় কম ছিল। তবে সদুপদেশ, মানুষ হবার শুলুক সেখানে ছিল যা ইদানিং প্রায় চোখেই পড়ে না। রাশেদ রউফ, ফারুক নওয়াজ আর সুজন বড়–য়ার লেখায় এখনও পদ্যের বা শিশুতোষ কবিতার স্বাদ পাই। এই সঙ্গে আমি মঈন মুরসালিনের নামটিও লিখতে চাই। ব্যঙ্গ আছে, বিদ্রƒপ আছে, ঠাট্টা আছে এবং একই সঙ্গে মনুষ্যত্ব, ন্যায়বিচার সত্যের শাসন প্রতিষ্ঠার আকুতি আছে। সব ছন্দেই তার সহজ অধিকার, এইটি আমার খুব ভালো লেগেছে, ছোটদের জন্য লেখার সময় সতর্কতা সব দিক থেকেই অবলম্বন করতে হয়, এই বোধটা তার পুরোপুরিই আছে। পুরস্কার তিনি পেয়েছেন বেশ কটি, যার মধ্যে রয়েছে ফররুখ আহমেদ পুরস্কার, ছড়ার আসর পুরস্কার, বাঁধনহারা লিটলম্যাগ সম্মাননা পদক। আমি মনে করি যাদের জন্য এসব লেখালেখি তাদের ভালো লাগাটাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার। আমি আশা করব, শুধু শিশুকিশোরই নয়, তাদের অভিভাবকরাও বইটি পাঠ করবেন, লেখার কি আর বয়স আছে? আর অন্যের খবর জানি যে, আমি তো পড়ি আমার নিজকে জানার জন্যই। এই বই এ ক্ষেত্রেও নিরাশ করেনি।

আমার বাংলা‌`র পক্ষ থেকে জন্মদিনের অগণন শুভেচ্ছা…!

Check Also

এরদোয়ানকে ১০০ কেজি আম উপহার!

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ১০০ কেজি আম উপহার দিচ্ছে বাংলাদেশ। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত …

Leave a Reply