Breaking News
Home / জীবন ধারা / ভালুকার সীডষ্টোর-সখিপুর সড়কে লাউতি সেতুতে ভাঙ্গন ঝুকি নিয়ে চলছে ভারী যানবাহন

ভালুকার সীডষ্টোর-সখিপুর সড়কে লাউতি সেতুতে ভাঙ্গন ঝুকি নিয়ে চলছে ভারী যানবাহন

ভালুকা, (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের ভালুকার সীডষ্টোর হতে সখিপুর সড়কের লাউতি খালের উপর লাউতি সেতুর। মাঝখানের অংশ ভেঙ্গে ঢালাইশুন্য হয়ে রড বেরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনগুরুত্বপুর্ন একটি সেতু। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের আওতাধীন ওই ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। উপজেলার সিডস্টোর-সখীপুর সড়কের লাউতি খালের উপর সেতুটি মরণফাদে পরিনত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিডস্টোর-সখীপুর সড়কটি বর্তমানে যথেষ্ট জনগুরুত্বপূর্র্ণ ও সদাব্যস্ত। আর সড়কটির জন্যই লাউতি খালের উপর সেতুটির গুরুত্বও যথেষ্ট। কয়েক বছরে এই সেতুটির দুই দিকে সিডস্টোর-সখিপুর সড়কের আশেপাশে গড়ে উঠছে বেশ কিছু শিল্প কারখানা এবং কিছু কারখানা নির্মানাধীন। প্রতিদিন বিভিন্ন কল কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ছোট-বড় শতশত হালকা, মাঝারী ও ভারী যানবাহনের দিবারাত্র যাতায়ত এই সেতুটির উপর দিয়ে। কাচিনা ইঊনিয়নের পশ্চিমাংশের পাশর্^বতী সখিপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাতায়াত ও উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের হাজার হাজার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ গণমানুষ এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে। উপজেলার লাউতি নদীর উপরের ওই সেতুটি ১৯৮২সালে জেলা পরিষদের মাধ্যমে নির্মিত হয়। কিন্তু এর উপর দিয়ে অহরহই যাতায়ত করে ধারণ ক্ষমতার বাইরের ওজনের মালবাহি যানবাহ। ফলে অতিরিক্ত ওজনের চাপ সইতে না পারায় সেতুটির মাঝখানের কিছু অংশ থেকে ঢালাই খসে পড়ে রড বের হয়ে আসে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটিতে চলাচল ঝুঁকিপুর্ন হয়ে উঠে। ওই ঝুকিপূর্ন অবস্থাতেও সেতুটির উপর দিয়েই চলাচল করছিল হালকা ও ভারীসহ নানা ধরণের যানবাহন। তবে, অতিসম্প্রতি স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে ওই সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ‘স্টীল ব্রীজ’র পাত বসিয়ে এর উপর দিয়ে হালকা যান ও পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুধবার (১২ডিসেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটির দুই পাশে ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতু যান চলাচল নিষেধ’ লিখা সাইন বোর্ড লাগানো হয়েছে। সতর্ক করার জন্যে সেতুটিতে লাল কাপড় ঝুলানো হয়েছে এবং হাইটবার লাগিয়ে কভার্ডভ্যান চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। ওই সময় সেতুটি মাপজোখ করছিল এলজিইডির লোকজন। একই সময় সেতুটির একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল বেশ কিছু কভার্ড ভ্যান। কথা হলে স্থানীয়রা জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মোটরসাইকেল, ব্যাটারী চালিত রিক্সা, অটোরিক্সা, সিএনজিসহ শতশত হালকা, মাঝারী ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। তাদের দাবি, মাত্রাতিরিক্ত ওজনের ট্রাক ও লড়ি চলাচলের কারণেই সেতুটির একটি অংশ ভেঙে গেছে। এই বিষয়ে আমরা বারবার নিষেধ করার পরও কেউ শোনেনি। তারা বলেন, সেতুর পাশে কভার্ড ভ্যানগুলো দাড়িয়ে আছে তারা সেতুর উপর দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে। ইঞ্জিনিয়ার (এলজিইডি) অফিসের লোকজন চলে গেই তারা সেতুটির উপর দিয়ে যাবে। কারো কথাই শোনবে না। তাদের অভিমত, ভারী যানবাহনের চাপে সেতুটি ভেঙে পড়লে পাশর্^বর্তী সখীপুরসহ উপজেলার একাংশের সাথে ভালুকা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি হবিরবাড়ি ইউনিয়নের তিনটি ও কাচিনা ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি ভোটকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নতুন করে সেতুটি দ্রুত নির্মান করার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সেতুটি ১৯৮২সালে আমার সময়ে নির্মান করা। তখন আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম। তার দাবি, অতিরিক্ত মালবাহি যান চলাচলের কারণে সেতুটি ভেঙে পড়ছে। ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ‘ওই সেতু ও সিডস্টোর-সখীপুর সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সমন্ময় কমিটির সভায় অনেকবার কথা বলেছি।’ কাচিনা ইউপি চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান লিটন বলেন, ‘যে করেই হউক সেতুটি দিয়ে ভারী যান চলাচল এখই বন্ধ করা দরকার। অন্যথায় সেতুটি ভেঙে পড়লে হবিরবাড়ির পশ্চিমাংশসহ তার ইউনিয়নের পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হবে। উপজেলা প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, স্টীল ব্রীজের পাত দিয়ে মেরামত করে সেতুটি দিয়ে হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টির তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, ওই সেতুটি নতুন করে করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশপাশের শিল্প কারখানা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তাদের কারখানার ভারী যান আপাতত সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল না করার জন্যে বলা হয়েছে। তাছাড়া, এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকেও বলা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, এলজিইডির মাধ্যমে সেতুটির উপর দিয়ে আপাতত হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, জনস্বার্থে সেতুটি অচিরেই নতুন করে নির্মান করা দরকার। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সীডস্টোর-সখিপুর রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তা। এর দুই পাশে অসংখ্য নামীদামী শিল্প কারখানা অবস্থিত। ওইসব কাখানার অসংখ্য ট্রাক এই রাস্তা হয়ে ২৪ঘন্টা যাতায়ত করে। অত্যধিক স্টীল ও বালি বোঝাই ট্রাক এই রাস্তা ও সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করায় রাস্তা ও সেতুটির ক্ষতি হয়েছে এবং সেতুটির কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে।

Check Also

দেশে করোনা কেড়ে নিল আরো ৪৫ প্রাণ, আক্রান্ত ৩২৪৩

  অনলাইন ডেস্ক- গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ …

Leave a Reply