Breaking News
Home / পাঁচফোড়ন / কৃষক বন্ধু নিতাই রায়

কৃষক বন্ধু নিতাই রায়

এই বয়সে ঘরে থাকবেন, বিশ্রাম নেবেন, এটা-সেটা খাবেন—তা নয়, টইটই। ঘরের লোকদের এমনই অভিযোগ নিতাই চন্দ্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু নিতাই চন্দ্রের শুয়ে-বসে কাটাতে ভালো লাগে না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন; কিন্তু কাজ থেকে নেননি। পথে যেতে যেতে ফল-ফসলের খোঁজখবর নেওয়া তাঁর অভ্যাস। বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে। পড়াশোনাও করেছেন সেখানে। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৮৪ সালে বিএসসি পাস করেন। তারপর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বিভিন্ন চিনিকলে দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরি করেছেন। অবসর নিয়েছেন ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি। শেষ জীবনে নাটোর জেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (কৃষি)। চাকরি শেষ করে ফিরলেন বাড়িতে। আবার হয়ে গেলেন ত্রিশালবাসী। দিনকয় বাড়িতে টুকটাক কাজকর্ম করেছেন; কিন্তু মন মানত না। ফেব্রুয়ারির এক সকালে তিনি পথে নামেন। গ্রামের পথ মানেই দুই ধারে ফসলি জমি। কৃষক সেখানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিল। জমির আইলে দাঁড়িয়ে কৃষককে কাছে ডাকেন। জানতে চান তার ফসলের খবর। রোগ-বালাইয়ের খবর। কৃষকের কথা শুনে পকেট থেকে ছোট কাগজের প্যাড বের করে বালাইনাশকের নাম লিখে দেন।

নিতাই চন্দ্র বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনেক লোককেই পরামর্শ দিয়েছি। সব মিলিয়ে চার-পাঁচ শ হয়ে যাবে। কয়েক জায়গায় কৃষকদের একসঙ্গে করেও পরামর্শ দিয়েছি। শুরুর দিকে এক দিন বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে চিকনা মনোহর গ্রামে গিয়েছিলাম। দেখি কৃষকের পুঁইগাছে রোগ হয়েছে। কথা বলার পর পরামর্শ দিলাম। পরে ওই চাষির সঙ্গে আবার দেখা হলে জানিয়েছিল, উপকার পেয়েছে। আরেক দিন গেছি চকরামপুর গ্রামে। দেখি চালকুমড়ার ক্ষেতে মাছি পোকা। ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দিলাম। এরপর এক দিন সমানিয়াপাড়া গিয়ে ধানচাষিদের পরামর্শ দিয়েছি। ছলিমপুরের টমেটো ও সিমচাষিদের পরামর্শ দিয়েছি।’

এক দিন নিতাই চন্দ্র শুনলেন পাশের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পলাশতলী গ্রামে আখচাষ হয়। নিতাই চন্দ্র সেখানে গিয়ে তাদের সমস্যা শুনেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। নিতাই চন্দ্রের অনুরোধে ঈশ্বরদী থেকে ফুলবাড়িয়া ভিজিটে এসেছিলেন বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন। তিনি চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন। নিতাই চন্দ্র রায় যেখানেই যান, কৃষকরা তাঁর ফোন নম্বর রেখে দেন। চাষিরা ফোন করেও তাঁর পরামর্শ নেন।

নিতাই চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে যাঁরা উপকৃত হয়েছেন, তাঁদেরই একজন ফুলবাড়িয়ার পলাশতলী গ্রামের আখচাষি ইউনুস আলী (২২)। বললেন, ‘নিতাই চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এখন আখচাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছি। আখের উন্নতজাতগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছি।’ এলাকার অন্য অনেক চাষিই নিতাই চন্দ্রের পরামর্শ মেনে উপকৃত হচ্ছেন।

ত্রিশাল উপজেলা সদরের বাসিন্দা রাধা রমন মোদক বলেন, ‘আমি কৃষিকাজে উৎসাহিত হয়েছি নিতাই রায়ের সান্নিধ্যে এসে। নিজ বাড়িতে থাই পেয়ারার চাষ করেছি। লাগিয়েছি আম্রপালি।’ ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহম্মেদ বলেন, ‘আমি মাসখানেক সময় হয় ত্রিশালে এসেছি। এসেই নিতাই চন্দ্র রায়ের কথা শুনেছি। স্থানীয় কৃষকরা অনেকেই নিতাই চন্দ্র রায়ের পরামর্শ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।’

নিতাই চন্দ্র লেখালেখিও করেন। কৃষি ও পরিবেশ বিষয়ে তাঁর লেখা বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হয়।

( সূত্র:-http://www.kalerkantho.com/print-edition/oboshore/2018/11/17/704426?fbclid=IwAR0R09RvgjvrdEh6NAKMcJCeYRC13MNBCOgoyRlB31f5IGi53AxC0AMU92k)

Check Also

ভালুকায় রকেটের একাউন্ট হ্যাক করে নারী গার্মেন্টস শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ

ভালুকায় রকেটের একাউন্ট হ্যাক করে নারী গার্মেন্টস শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ভালুকায় ডাচ …

Leave a Reply